টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর মহেরা জমিদার বাড়ি ঐতিহাসিক স্থাপনের জন্য বিখ্যাত। জমিদার বাড়িটি স্পেনের কর্ডোভা নগরীর আদলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বর্তমানে এই জমিদার বাড়িটি পুলিশ ট্রেনিং স্কুল হিসেবে ব্যবহার হয়। বাড়িটির অবস্থান টাঙ্গাইল থেকে 18 কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মির্জাপুরে। বাড়িটিতে প্রবেশের জন্য রয়েছে দুইটি সুন্দর কারুকার্য করা গেট। বাড়ির সামনে বিশাখা সাগর নামে একটা দিঘি রয়েছে যা আপনার মনকে কেড়ে নিবে। পাসরা পুকুর ও রানীপুকুর এইবাড়ীর আরো দুটি আকর্ষণীয় পুকুর যা আপনার কল্পনাকে ছুঁয়ে দিতে পারে। বাড়িটিকে শোভা বর্ধনের জন্য বিভিন্ন ফল ও ফুলের গাছ লাগানো হয়েছে। বাড়ির ভেতরে রয়েছে বিশাল আম বাগান, সুন্দর কাছারি ঘর , সুসজ্জিত গোমস্তা ঘর , চৌধুরী লজ , মহারাজ লজ, আনন্দলজ ও কালীচরণ লজ।
রোমান স্থাপত্য শৈলী চৌধুরী লজ
বাড়ির ভেতরে ঢোকার সময় প্রথমেই আপনি দেখতে পাবেন চৌধুরী লজ। চৌধুরী লচটি মূলত গোলাপি রঙের দেখতে অনেকটা রোমান স্থাপত্য শৈলীর মত। ভবনটির সামনে আরাম ও খেলাধুলার জন্য রয়েছে সুন্দর সবুজ মাঠ ও বাগান।
জমিদারি প্রথা বিলুপ্তির নিদর্শন
ইংরেজি অক্ষর ইউ দেখতে যেরকম ঠিক অনেকটা সেরকম আদলে তৈরি হয়েছে কালীচরণ লজ। বিশেষ করে বিকালের সূর্যাস্ত ও অবসর সময় কাটানোর জন্য এই লস তৈরি করা হয়।
সত্যিকার অর্থে মহেড়া জমিদার বাড়িটি পল্লীর ভিতরে অবস্থিত বলে এই বাড়ির সৌন্দর্য আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। এখানে নেই কোন কোলাহল নেই কোন যানজট নেই কোন দূষণ । বাড়িটি কালের নিদর্শন হিসেবে আজও দাঁড়িয়ে আছে তার নিজস্ব। পল্লীর ছায়াঘেরা পাখি-ডাকা নির্মল নির্যর শান্ত পরিবেশ আপনাকে আকুল করে দিবে।যদিও পূর্বে এত সুন্দর ছিল না এই মহেড়া জমিদার বাড়িটি কিন্তু কালের বিবর্তনে বিভিন্ন প্রয়োজনে এই বাড়িটি ফুল ফলের বাগানে সুসজ্জিত করা হয়েছে। বাড়িটি 1971 সালের বিভিন্ন সাক্ষী নিয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে । আর সেই থেকেই এখনো এখানে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর ট্রেনিং চলমান আছে। বাড়িটির দেখভালের দায়িত্ব পুলিশ বাহিনীর হাতে ন্যস্ত আছে।
বাড়িটি দেখার জন্য আপনাকে করোটিয়া নাটিয়াপাড়া বাস স্ট্যান্ড থেকে সিএনজি অথবা বেবি ট্যাক্সি নিয়ে আসতে হবে। তবে ভাড়া বেশি না জনপ্রতি 15 টাকা হিসেবে পে করতে হবে। আর এখান থেকে আপনি ঢাকা বিভাগের ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, জামালপুর , সরিষাবাড়ি, ধনবাড়ী, মধুপুর সব জায়গায় যাওয়ার গাড়ি পেয়ে যাবেন।
বাড়িটিতে রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে এসি নন এসি ডাকবাংলোর ব্যবস্থা আছে। তবে সে ক্ষেত্রে আপনাকে পূর্বে থেকেই অনুমতি নিতে হবে যেহেতু বাড়িটি পুলিশের ওপর ন্যস্ত আছে।দিনের বেলায় বাড়িটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত।
আমার এই ছোট লেখা টি যদি আপনার ভাল লাগে সে ক্ষেত্রে লাইক কমেন্ট ও শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করছি। আর নতুন নতুন তথ্য পেতে আমার এই ট্রিপ কার্নিভাল ব্লগস্পট সাবস্ক্রাইব করার জন্য অনুরোধ করছি। ধন্যবাদ আপনাকে ধৈর্য সহকারে লোকটি পড়ার জন্য।



0 Comments