Recents in Beach

header ads

টাংগাইলের সেরা দর্শণীয় স্থানসমূহ | প্রকৃতির মজা নিতে ঘুরে আসি বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী শালবন মধুপুর 2021

modhupur-rubber-garden

বাংলাদেশের টাংগাইলে মধুপুর উপজেলা নামে একটি উপজেলা রয়েছে। উপজেলা টি ঢাকা শহরের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। ঢাকা থেকে উপজেলাটির দূরত্ব ১৩৭ কিলোমিটার। ঢাকা থেকে উত্তর-পশ্চিমে বংশী নদীর তীরে অবস্থিত।

মধুপুর উপজেলাটিতে মোট ১১ টি ইউনিয়ন রয়েছে।এই ১১ টি ইউনিয়নের মধ্যে প্রত্যেকটি ইউনিয়নে রয়েছে বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান। ভ্রমণ পিপাসুদের উদ্দেশ্যে সেই দর্শনীয় স্থানগুলো সম্পর্কে কিছু ধারণা দেওয়ার জন্যই আজকে আমার এই লেখা।সম্পূর্ণ লেখাটি পড়লে আশাকরি উপকৃত হবেন।

চলুন এবার জেনে নেই মধুপুর উপজেলার পটভূমি। এই উপজেলার নামকরণ নিয়ে বলা হয় মধু শব্দ থেকে এর নামকরণ করা হয়েছে। এই উপজেলায় বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী শালবন রয়েছে। মধুপুর উপজেলা টি কোন এক সময় রাজাদের আয়ত্তে ছিল আবার কখনো ছিল জমিদারের দখলে। মধুপুর উপজেলাটিকে জাতীয় উদ্যান সংবলিত উপজেলা ঘোষণা করা হয়।

মধুপুর উপজেলায় বেশ কয়েকটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। বিশেষ করে গারো,ও বুদ্ধদের বাসস্থান এই মধুপুর উপজেলা ‌।এই এলাকার মানুষ তাদের নিজস্ব ভাষায় কথা বলে। এই মধুপুর উপজেলার মানুষগুলো অত্যন্ত সহজ ও সরল প্রকৃতির জীবন যাপন করে ‌।এই উপজেলা বাংলা সাহিত্যের অন্যতম নিদর্শন লোকসাহিত্য, পুঁথি সাহিত্য, ও প্রবাদ প্রবচনের জন্য বিখ্যাত। এখানকার মানুষ ঠান্ডাকে বলে টেলকা , ছেলেকে বলে গ্যাদা আর মেয়েকে বলে গেদি ।

চলুন এবার জেনে নেই মধুপুর জেলার দর্শনীয় স্থানসমূহ কোনগুলো। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে দর্শনীয় স্থান থাকলেও বিশেষ করে টাঙ্গাইল জেলার এই মধুপুরে রয়েছে বিশেষ আকর্ষণ। তন্মধ্যে বেশকিছু বিশেষ আকর্ষণীয় দর্শনীয় স্থান হচ্ছে রসুলপুর জাতীয় উদ্যান, দোখলা রেস্ট হাউজ, পীরগাছা রাবার বাগান, কাকরাইদ বীজ উৎপাদন খামার ও আরো অনেক। তবে বিশেষ করে রাবার বাগান এখানকার প্রধান আকর্ষণ। এই বাগানে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ তন্মধ্যে রাবার গাছই প্রধান। বিভিন্ন লতাপাতা ও পত্রপুষ্পিত চারদিক। চারিদিকে শুধু সবুজের সমারোহ মাঝেমধ্যে রঙিন ফুলের সমারোহ আপনাকে করবে মোহিত। এখানকার প্রাকৃতিক নৈসর্গিক আপনাকে ভ্রমণের আলাদা একটা মজা দিতে বাধ্য। এই বাগানে রয়েছে বানর , হনুমান ও বিভিন্ন প্রজাতির পশু পাখি যার সাথে আপনি একেবারে কাছাকাছি থেকে উপলব্ধি করতে পারবেন।

চলুন এবার জেনে নেই মধুপুর বেড়াতে আসলে আপনি কোথায় থাকবেন। মধুপুর জাতীয় উদ্যান এর কাছাকাছি ’২৫ মাইল’ নামক স্থান থেকে ৯ কিলোমিটার দূরে ’দুখলা রেস্ট হাউজ’ রয়েছে। সেখান থেকে অনুমতি নিয়ে আপনি বনের ভিতরে ঢুকতে পারবেন। তার পাশেই রয়েছে ’জল গেস্টহাউস’ ও ’মহুয়া কটেজ’। যেখান থেকে আপনি বন-বনানীর অপরূপ সবুজ দৃশ্য পাখ-পাখালির ডাক স্পষ্ট শুনতে পাবেন

’দোখলা রেস্ট হাউজের’ পাশে দুটি পিকনিক স্পট এবং ’জুঁই চামেলী’ বাগান রয়েছে ‌। সেখানে রয়েছে সুউচ্চ একটি টাওয়ার, আছে খেলার মাঠ , আছে পয়-প্রণালীর সুব্যবস্থা । পাশেই রয়েছে ছোট্ট একটি বাজার ও আদিবাসী পল্লী । যেখানে আপনি ঘুরে বেড়াতে পারবেন নিঃসন্দেহে। আদিবাসীদের শিল্প বিপ্লব ”কারিতাস” এখানে অবস্থিত এবং এখান থেকে রেশম বস্ত্র শিল্প বিক্রয় হয়।

মধুপুর জাতীয় উদ্যান ভ্রমণে আপনি এখানকার স্থানীয় খাবার, এখানকার শিক্ষা-দীক্ষা, স্বাস্থ্য ও বিভিন্ন ধরনের পল্লী উন্নয়ন বোর্ড, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ, কৃষি বিভাগ, শিক্ষা বিষয়ক তথ্য, ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ইত্যাদি দেখে মুগ্ধ হবেন।

বিস্তারিত তথ্যের জন্য ভিজিট করতে পারেন

আমার এই ছোট লেখা টি যদি আপনার ভাল লাগে সে ক্ষেত্রে লাইক কমেন্ট ও শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করছি। আর নতুন নতুন তথ্য পেতে আমার এই ট্রিপ কার্নিভাল ব্লগস্পট সাবস্ক্রাইব করার জন্য অনুরোধ করছি। ধন্যবাদ আপনাকে ধৈর্য সহকারে লেখাটি পড়ার জন্য।

Post a Comment

0 Comments