বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি ক্ষুদ্রতম দেশ । এটি একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। বাংলাদেশের চারদিক প্রায় ভারত দ্বারা পরিবেষ্টিত শুধুমাত্র একটি দিক ছাড়া। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। তবে চট্টগ্রাম বাংলাদেশের দ্বিতীয় রাজধানী।
এমন অনেকেই আছেন যারা বাংলাদেশের এয়ারপোর্ট কয়টি ও কি কি জানেন না। তাদের উদ্দেশ্যে আমার এই লেখা। চলুন দেখে নিই বাংলাদেশে কয়টি এয়ারপোর্ট রয়েছে ও কি কি।
বাংলাদেশ একটি ছোট দেশ হলেও এখানে রয়েছে বিভিন্ন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা। আর তাই বাংলাদেশে রয়েছে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট ও অভ্যন্তরীণ এয়ারপোর্ট।
এক নজরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট
বর্তমানে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সংখ্যা হচ্ছে চারটি। বিমানবন্দরগুলো হল -
- হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর - ঢাকা
- শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর - চট্টগ্রাম
- ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর - সিলেট
- কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর - কক্সবাজার-চট্টগ্রাম
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ( ঢাকা )
অবস্থান :
বাংলাদেশের ঢাকার উত্তরা ও খিলক্ষেত এ দুয়ের মাঝে এর অবস্থান। এটি বাংলাদেশের বৃহত্তম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অবস্থান বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। বিমানবন্দরটির -
ICAO Code হচ্ছে - VGZR এবংIATA Code হচ্ছে - DAC
শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ( চট্টগ্রাম )
অবস্থান :
চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্র কিনারে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অবস্থিত। বিমানবন্দর টি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিমানবন্দর। এই বিমানবন্দর থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যাত্রী আনা-নেওয়া করা হয়। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়। বিমানবন্দরটির -
ICAO Code হচ্ছে - VGEG এবংIATA Code হচ্ছে - CGP
ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ( সিলেট )
অবস্থান :
ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বাংলাদেশের সিলেট বিভাগে অবস্থিত।এটি বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। বিমান বন্দরটি সিলেট বিভাগীয় শহরে অবস্থিত। তবে শহর থেকে একটু দূরে বড়শাল এলাকায় অবস্থিত। ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়। তন্মধ্যে সিলেট থেকে লন্ডন ফ্লাইট উল্লেখযোগ্য। ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর টির -
IATA Code হচ্ছে - ZYLICAO Code হচ্ছে - VGSY এবং
কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর , (cox's বাজার , চট্টগ্রাম)
অবস্থান :
কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগ কক্সবাজার অবস্থিত। কক্সবাজার হলো বাংলাদেশের বৃহত্তম পর্যটন এলাকা। বিমান বন্দরটি বিমানবন্দর উন্নীতকরণ বিভিন্ন প্রকল্পের আওতাভুক্ত। অর্থাৎ বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরে উন্নত করার লক্ষ্যে বেশ কিছু প্রকল্প সরকার হাতে নিয়েছে। তবে এখান থেকে অভ্যন্তরীণ বিমান ওঠানামা সহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করা হয় । বিশেষ করে চিংড়ি ফ্লাইট উল্লেখযোগ্য। বিমানবন্দরটির -
IATA Code হচ্ছে - CXBICAO Code হচ্ছে - VGCB এবং
শাহ মখদুম বিমানবন্দর ( রাজশাহী )
অবস্থান :
শাহ মখদুম বিমানবন্দর বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগে অবস্থিত। বিমানবন্দরটি সাধারণত অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর। ঢাকা থেকে রাজশাহী এবং রাজশাহী থেকে ঢাকা বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট ওঠানামা করে। বিমান বন্দরটি স্থাপনে ঢাকার সাথে উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেকটা উন্নত হয়েছে। শাহ মখদুম বিমানবন্দর টির -
IATA Code হচ্ছে - RJHICAO Code হচ্ছে - VGRJ এবং
যশোর বিমানবন্দর, ( যশোর )
অবস্থান :
যশোর বিমানবন্দর টি বাংলাদেশের খুলনা বিভাগে অবস্থিত। যশোর বিমানবন্দর টি মূলত অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন ফ্লাইট পরিচালনা করে। বিমানবন্দরটির থেকে ঢাকা - যশোর ও যশোর - ঢাকা ফ্লাইট ওঠানামা করে। এই বিমানবন্দরটি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হয়। এখানে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ একাডেমী প্রতিষ্ঠিত। যশোর বিমানবন্দর টির -
IATA Code হচ্ছে - JSRICAO Code হচ্ছে - VGRJ এবং
সৈয়দপুর বিমানবন্দর, ( সৈয়দপুর, নীলফামারী, রংপুর )
অবস্থান :
সৈয়দপুর বিমানবন্দর টি বাংলাদেশের রংপুর বিভাগে অবস্থিত। রংপুর বিভাগের সৈয়দপুরে নীলফামারীতে এই বিমানবন্দর টি অবস্থিত। বিমান বন্দরটি আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করণের লক্ষ্যে কাজ চলমান রয়েছে। সৈয়দপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের -
IATA Code হচ্ছে - SPDICAO Code হচ্ছে - VGSD এবং
বরিশাল বিমানবন্দর, ( বরিশাল )
অবস্থান :
বরিশাল বিমানবন্দর বাংলাদেশের বরিশাল বিভাগে অবস্থিত। বরিশাল শহরে বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নে এ বন্দরটির অবস্থান। ঢাকা টু বরিশাল এবং বরিশাল টু ঢাকা যাত্রী পরিবহন করে। বরিশাল বিমানবন্দর টির -
IATA Code হচ্ছে - BZLICAO Code হচ্ছে - VGBR এবং
ঈশ্বরদী বিমানবন্দর, ( নাটোর, লালপুর, ঈশ্বরদী ইউনিয়ন )
অবস্থান :
ঈশ্বরদী বিমানবন্দর টি রাজশাহী বিভাগে অবস্থিত। রাজশাহী বিভাগে নাটোরের লালপুর উপজেলার ঈশ্বরদী ইউনিয়ন অবস্থিত। বিমানবন্দরটির -
IATA Code হচ্ছে - IRDICAO Code হচ্ছে - VGIS এবং
খান জাহান আলী বিমানবন্দর, ( বাগেরহাট, খুলনা )
অবস্থান :
খান জাহান আলী বিমানবন্দর টি বাংলাদেশের খুলনা বিভাগের বাগেরহাট জেলায় অবস্থিত।
এক নজরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অব্যবহৃত বিমানবন্দরগুলো দেখে নিই
বাংলাদেশে অব্যবহৃত কিছু বিমানবন্দর রয়েছে। যেগুলো আপাতত ব্যবহার হচ্ছে না। তবে সেখানে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী অথবা বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম চালু রয়েছে।
- সন্দ্বীপ বিমানবন্দর - চট্টগ্রাম বিভাগ - সন্দীপ
- ফেনী বিমানবন্দর - ফেনী - চট্টগ্রাম বিভাগ
- চকরিয়া বিমান বন্দর - কক্সবাজার - চট্টগ্রাম বিভাগ
- রাজেন্দ্রপুর বিমানবন্দর - ঘাটাইল - টাঙ্গাইল - ঢাকা বিভাগ
- মৌলভীবাজার বিমানবন্দর -মৌলভিবাজার - সিলেট বিভাগ
- রসুলপুর বিমানবন্দর - রসুলপুর - চট্টগ্রাম বিভাগ
- সিরাজগঞ্জ বিমানবন্দর - সিরাজগঞ্জ - রাজশাহী বিভাগ
- পাহাড় কাঞ্চনপুর বিমানবন্দর - টাঙ্গাইল - ঢাকা বিভাগ
- পটুয়াখালী বিমানবন্দর - পটুয়াখালী - বরিশাল বিভাগ
- বাজিতপুর বিমানবন্দর - বাজিতপুর - কিশোরগঞ্জ - ঢাকা বিভাগ
এক নজরে দেখে নেই বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শুধুমাত্র বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণের জন্য যেসব বিমানবন্দর রয়েছে
- কুমিল্লা স্টলপোর্ট নির্মাণাধীন চট্টগ্রাম বিভাগ
- বগুড়া স্টলপোর্ট রাজশাহীর বগুড়ায় অবস্থিত
- ঠাকুরগাঁও স্টলপোর্ট রংপুর বিভাগ
- লালমনিরহাট স্টলপোর্ট রংপুর বিভাগ
- শমশেরনগর স্টলপোর্ট সিলেট মৌলভীবাজার
- নোয়াখালী স্টলপোর্ট চট্টগ্রাম বিভাগ
আমার এই ছোট লেখা টি যদি আপনার ভাল লাগে সে ক্ষেত্রে লাইক কমেন্ট ও শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করছি। আর নতুন নতুন তথ্য পেতে আমার এই ট্রিপ কার্নিভাল ব্লগস্পট সাবস্ক্রাইব করার জন্য অনুরোধ করছি। ধন্যবাদ আপনাকে ধৈর্য সহকারে লেখাটি পড়ার জন্য।







0 Comments