আফ্রিকার সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য কি?
আফ্রিকান লাইফ স্টাইল বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন প্রকৃতির হয়ে থাকে। এদের ঐতিহ্য সঙ্গীত, শিল্প, নৃত্য এবং ভাস্কর্যের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। আফ্রিকান ঐতিহ্য বিভিন্ন কারুকার্য ও বিশেষ শিল্পের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। যেমন সঙ্গীত, নৃত্য, শিল্প, ভাস্কর্য এবং বিভিন্ন পুঁতির কাজ। এই ঐতিহ্যগুলি সমগ্র আফ্রিকান সংস্কৃতিতে গভীরভাবে নিহিত রয়েছে যা বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন প্রকৃতির।
আফ্রিকার আসল নাম কি?
কিছু বিশেষজ্ঞদের মতে, আফ্রিকার পুরনো নাম ছিল আলকেবুলান। এই নামটির অর্থ "মানবজাতির মা" বা "এডেন উদ্যান"। Alkebulan একটি অত্যন্ত পুরানো শব্দ, এবং এর উৎস ‘ আদিবাসী ‘ থেকে।
আফ্রিকান সমাজগুলি অনেকটা জটিল প্রকৃতির এবং বৈচিত্র্যময়, মহাদেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান এবং পরিবর্তনের মূল্যায়ন ও বোঝার জন্য একটি আন্তঃবিভাগীয় পদ্ধতির প্রয়োজন। আফ্রিকান সমাজের একটি দার্শনিক বিশ্ব দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে যা আফ্রিকান জনগণ যে পরিস্থিতিতে কাজ করে তা বহন করে।
আফ্রিকা কেন অন্য মহাদেশ থেকে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে?
আফ্রিকা বিশ্বের অন্য ৭টি মহাদেশের মধ্যে স্বতন্ত্রভাবে অনন্য একটি মহাদেশ। আফ্রিকার একটি অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি রয়েছে। এটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ, প্রাকৃতিক সম্পদের সমৃদ্ধপর্ণ, শ্বাসরুদ্ধকর পর্যটন আকর্ষণ প্রদান করে।
আফ্রিকান বিশ্বাস ও ধর্মীয় মূল্যবোধ কি?
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত আফ্রিকানদের তিনটি প্রধান ধর্মীয় ঐতিহ্য রয়েছে —আফ্রিকান সনাতন ধর্ম, খ্রিস্টধর্ম এবং ইসলাম- যা আফ্রিকা মহাদেশের ত্রিবিধ ধর্মীয় ঐতিহ্য গঠন করে। এই ঐতিহ্য, যদিও সমসাময়িকভাবে আরও গতিশীলভাবে প্রমাণিত হয়েছে, এছাড়া এর একটি দীর্ঘ ইতিহাস এবং প্রভাব রয়েছে।
আফ্রিকা মহাদেশ সম্পর্কে যে ১০ টি তথ্য আপনার জানা উচিতঃ
- আফ্রিকা পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাদেশ।
- আফ্রিকার মানুষ সব মিলিয়ে প্রায় ১৫০০-২০০০ ভাষার মধ্যে কথা বলে।
- বিশ্বের দীর্ঘতম নদী নীল নদের উৎস আফ্রিকা মহাদেশে।
- আফ্রিকা মহাদেশে বিশ্বের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-কারাউইয়িন অবস্থিত।
- সর্বকালের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি রাজা মানসা মুসা একজন আফ্রিকান।
- বিশ্বের বৃহত্তম এবং উষ্ণতম মরুভূমি সাহারা আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থিত।
আফ্রিকা মহাদেশ কি জন্য এত বেশি জনপ্রিয়?
আফ্রিকা মহাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাদেশ হিসাবে স্বীকৃত।এছাড়াও আফ্রিকা মহাদেশে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বড় কিছু ঐতিহ্য দিয়ে পরিপূর্ণ। যা বিশ্বের অন্য মহাদেশ থেকে একে অন্যন্য মর্যাদা দিয়ে থাকে । আফ্রিকা মহাদেশের জনপ্রিয়তার অন্যতম হচ্ছে- বিশ্বের বৃহত্তম মরুভূমি সাহারা মরুভূমি আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থিত যা মরক্কোর ভ্রমণপথে । এছাড়াও এই মহাদেশে রয়ছে - পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী, নীল নদ, যা ৬৮৫৩ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
আফ্রিকা মহাদেশ এত সুন্দর কেন?
সুন্দর দর্শনীয় স্থান এবং শহর, অতুলনীয় প্রাকৃতিক বিস্ময়, নাটকীয় উপকূলরেখা, আশ্চর্যজনক বন্যপ্রাণী, বন এবং অবিস্মরণীয় স্থাপত্যের জন্য আফ্রিকা মহাদেশ বিশ্ব বিখ্যাত। মহাদেশটির একটি অনন্য সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য, সভ্যতা রয়েছে এবং এটি দেখার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজন এখানে ভিড় করে।
আফ্রিকানদের পছন্দের খাবার
চাপাতি (এক ধরনের রুটি):পূর্ব আফ্রিকার দেশ তানজানিয়া, কেনিয়া, উগান্ডা, রোয়াণ্ডা, এবং বুরুন্ডি জিবুতি, এরত্রিয়া, ইথিওপিয়া আর সোমালিয়ার অন্যতম সেরা ও জনপ্রিয় কুইজিন এটি। দিবারাত্রির যে কোনো সময়ে ডাল, বিফ স্টু ও সস দিয়ে এটি খাওয়া যায়। এছাড়া সকালের নাস্তা, দুপুরের খাবার হিসেবেও এটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। মাঝে মাঝে বিকালের স্ন্যাক কিংবা রাতের একমাত্র খাবার হিসেবে এটাকে বেছে নেওয়া হয়।
বেয়েনাতু: বেয়েনাতু নিরামিষ খাবারটি সাধারনত ইথিওপিয়ায় বেশি ব্যবহৃত হয়। এতে রয়েছে ডাল, বিট ও সবুজ শাকসবজি সমাহার । ইনজেরা দিয়ে খাবারটি পরিবেষণ করা হয় । ইনজেরা হল-পাতলা রুটি বা প্যানকেকের মত দেখতে। অনেকটা কেকের মত। স্বাস্থ্যকর এবং খুবই সুস্বাদু খাবার এটি।
পন্ডু (সাকা-সাকা): ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর ঐতিহ্যবাহী খাবার এটি। কাসাভা পাতা, পেঁয়াজ, মরিচ ও পাম তেল দিয়ে তৈরি। সাদা ভাত ও লেবু দিয়ে মাখিয়ে খায় । হয়তো তাই প্রতিবেশী দেশ রুয়ান্ডায়ও এই খাবারটি রান্না করা হয়।
কিটফো: ইথিওপিয়ার মসলা মিমিতা (মরিচের গুঁড়া) ও নিটের কিবেহ মেশানো মসলাদার কাঁচা গরুর মাংসের ডিশ। রোল করা রুটি দিয়ে এই খাবারটি খাওয়া হয়। এছাড়া অনেক ধরনের খাবারের সঙ্গেও খাওয়া হয়। নাইজেরিয়াতেও জনপ্রিয়তা রয়েছে।
ওয়েজা ওয়া: মূলত অক্টোপাস দিয়ে রান্না করা তানজানিয়ার আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল জাঞ্জিবারের খাবার। লেবুগাছের ডালপালা ও নারকেলের দুধ দিয়ে রান্না করা হয়। সামুদ্রিক খাবার খেতে পছন্দ করেন এমন মানুষের আদর্শ খাবার এটি।
ক্যারাংয়ুজো ই কোকো (কোকোনাট ক্র্যাব কারি): মোজাম্বিক দেশটিতে কাঁকড়ার নরম তুলতুলে মাংস দিয়ে এই খাবারটি পরিবেষণ করা হয়। রান্না করা হয় মিষ্টি নারকেল ও দুধ দিয়ে। ঝোলঝোল করে পরিবেশন করা হয়।
ডোরো ওয়াট: ইথিওপিয়ায় মুরগির সাথে মাখন ও জ্যাম দিয়ে পাকানো হয় ডোরো ওয়াট । সঙ্গে থাকে নানা ধরনের মসলা। ধৈর্য ও দক্ষতা ছাড়া এ খাবার রান্না করা সম্ভব নয়। দেশটির অন্যতম মুখরোচক ও বহুলচর্বিত খাবার এটি। ছুটির দিন ও বিভিন্ন ইভেন্টে পরিবেশন করা হয়।
আফ্রিকানরা কেমন পোশাক পরিধান করে?
পোশাকে আফ্রিকানরা যথেষ্ট মার্জিত তবে কিছুক্ষেত্রে ব্যতিক্রম । তারা সাধারণত বৈবাহিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে পোশাক পরে থাকে। গুঁটিকা তুলোর স্ট্রিং দিয়ে তৈরি জামা পরিধান করে অবিবাহিত মেয়েরা। দেখতে অনেকটা ছোট স্কার্ট এর মত কিংবা কিছু কিছু ক্ষেত্রে ঘাসের তৈরি পোশাক।
চুল ছোট দেখে চিহ্নিত করতে হয় কার বিয়ে হয়নি। সাধারণত তারা একক লম্বা জামা পরে থাকে। যাদের বিয়ে হতে যাচ্ছে তাদের বুঝা যায় চুল দেখে। ভবিষ্যতকে সম্মান করে তারা বুক পর্যন্ত চুল রেখে থাকে।


0 Comments