আজ আমি আপনাদেরকে পুরো বিশ্বের যাদু হিসাবে বিবেচিত একটি স্থান ‘কেপ অফ গুড হোপের’ সমস্ত বৈশিষ্ট্য তুলে ধরব এবং এটা নিয়ে প্রচলিত যতসব গল্প কথা রয়েছে পর্যায়ক্রমে বলব। ধৈর্য থাকলে ব্লগটি পড়তে পারেন এতে আপনার না জানা অনেক বিষয় জানতে পারবেন।
দ্য ক্যাসেল অফ গুড হোপ এঁর ইতিহাস
স্থানীয়রা এটাকে ‘কাস্টিল ডাই গোই হুপ’ বা ভয়ানক মৃত্যু দুর্গ বলে ও অভিহিত করেন। দুর্গটি দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ টাউন উপকূলে অবস্থিত প্রাচীনতম ভবন।এই ভবনটি ১৬৬৬ এবং ১৬৭৯ সালে ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি নির্মাণ করে।এটি প্রথম তৈরি করেছিলেন জান ভ্যান রিবেক ১৬৫২ সালে কেপ অফ গুড হোপে আগমনের পর ।
এটা নির্মাণ করা হয়েছিল মূলত নেদারল্যান্ডস এবং ডাচ ইস্ট ইন্ডিজ (এখন ইন্দোনেশিয়া) এর মধ্যে দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রায় কেপের উপকুলে।‘কাস্টিল ডাই গোই হুপ’ এঁর প্রবেশদ্বারে একটি বিশাল ঘণ্টা টাঙানো ছিল যার ওজন ছিল ৩০০ কেজি।
বিপদের সময় এটি কোন আদেশ ঘোষণা করার পাশাপাশি নাগরিকদের সতর্ক করার জন্য ব্যবহৃত হত।এই ঘণ্টার শব্দ ১০ কিলোমিটার দূর থেকে শুনা যেত।একটি গির্জা, বেকারি, বিভিন্ন ওয়ার্কশপ, লিভিং কোয়ার্টার ও দোকান এবং সেল সহ অন্যান্য সুবিধা ‘কাস্টিল ডাই গোই হুপ’ রয়েছে।
দ্য ক্যাসেল অফ গুড হোপ কেন ভুতুরে ?
‘ক্যাসেল অফ গুড হোপে’ গভীর রাতে "ভূতেরা চলাচল করে বলে প্রমাণ পাওয়া যায়।চলাকালীন বিভিন্ন রকম চিৎকার,চেঁচামেচি, বিকট আওয়াজ এবং পায়ের শব্দ শুনা যায়। যা এখনও পাহারায় থাকা সৈন্যদের আতঙ্কিত করে তুলে।তাদের ব্যাখ্যা অনুসারে অতীতে ‘কাস্টিল ডাই গোই হুপ’ দুর্গে নানা রকম অত্যাচার ও নিপীড়নের তাণ্ডব চলত।
আর সেই নিপীড়নের স্বীকার মৃত ব্যাক্তির আত্মারাই সেখানে ঘরাফেরা করে। আজ অবধি, সৈন্যরা প্রাসাদ পাহারা দেওয়ার সময় সকাল কিংবা বিকাল বেলায় ও ভুতুড়ে আর্চওয়ের মধ্য দিয়ে যাওয়ার চেয়ে বিল্ডিংয়ের বাইরের চারপাশে হেঁটে যেতে পছন্দ করে।
‘ক্যাসেল অফ গুড হোপে’ ১৫০ বছর ধরে বেসামরিক, প্রশাসনিক এবং সামরিক কার্যকলাপের কেন্দ্র ছিল এবং ভয়ঙ্কর শাস্তি, নির্যাতন এবং মৃত্যুদণ্ডের স্থানও ছিল এটি । বিল্ডিংগুলিকে ভুতুড়ে বলে মনে করার অন্য আরেকটি কারন হল ক্যাসেলটি কেপ টাউনের ভুতুড়ে রুটে অবস্থিত।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে, উপরিউক্ত ভূতুরে কাণ্ড ছাড়াও একটি ভাসমান মানব আকৃতি মাজেমধ্যে দেখা যেত। বলা হয়, এই মানব আকৃতির ভুতটি হতে পারে একজন সৈনিকের যে ৩০০ বছর আগে বেল টাওয়ারে ঝুলেছিল।
এছাড়া আরেকটি অসহায় মহিলার প্রতিকৃতি দেখা যায়। সেই মহিলাটি একটি দীর্ঘ, ধূসর পোশাক পরা, রাতের বেলায় দুর্গের মধ্য দিয়ে হেঁটে বেড়াতো। মনে করা হয় এটি লেডি অ্যান বার্নার্ড এঁর প্রতিচ্ছবি যে কিনা এখানে রাত্রে পার্টিতে যোগ দিতে এসেছিল। লেডি অ্যান বার্নার্ড এঁর স্বামী ১৭৯৭ সালে ঔপনিবেশিক সচিব ছিলেন।তারা এই ক্যাসেলে পাঁচ বছর বসবাস করে ছিলেন।
কথিত আছে, "এক রাতে একজন প্রহরী শুনতে পেল কেউ সাহায্যের জন্য চিৎকার করছে এবং যেখানে নির্যাতন করা হত সেখান থেকে আওয়াজ আসছে।"প্রহরীরা যখন সেখানে গেল তখন সেখানে কেউ ছিল না ।সে সময় প্রহরীরা খুব ভয় পেয়েছিল।
ভ্যান রিবেক ফেস্টিভ্যালের সময় ১৯৫২ সালে, এক দম্পতিকে দুর্গে মাত্র একটি রাত কাটানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে রাতের বেলা, তারা ভয় ও পেয়েছিলেন এবং দেখলেন বাসের চালক ও বাস কন্ডাক্টররা শহরের রাস্তায় বিক্ষোভ ও তাণ্ডব করছে।পরের দিন ওই দম্পতি ঘটনাটি জানার জন্য খবরের কাগজ দেখলেন কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় সেদিন কাগজে বিক্ষোভ বা হরতালের কোন খবর ছিলনা।পরে তারা ‘ক্যাসেল অফ গুড হোপে’ দুর্গের কর্মীদের জিজ্ঞাসা করেছিল রাতে কি হয়েছিল কিন্তু কেউ কিছুই জানত না।
ক্যাসেলের শিক্ষা কর্মকর্তা কার্ল কোপারস্কি প্রায়ই গভীর রাতে কাজ করেন। তার মতেও সেখানে কাজ করতে গিয়ে অদ্ভুত অনভুতি অনুভব করেন। তিনি মাজেমধ্যে বিরক্তও হয়ে যান।তবে এটি বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর ও বৃহত্তম বোটানিকাল উদ্যানগুলির মধ্যে একটি তাই যতই বাজে অভিজ্ঞতা হোক না কেন তিনি মানিয়ে নিয়েছিলেন। এটি বর্তমানে ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসাবে বিবেচিত। এখানে সমুদ্রের উপকলে আফ্রিকান পেঙ্গুইন দেখতে খুবই ভাল লাগে।


0 Comments