Recents in Beach

header ads

রাঙামাটির বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র সাজেক উপত্যকায় চান্দের গাড়ি বা বডি লক্করঝক্কর গাড়ি দিয়ে ঘুরাঘরি 2022

বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র সাজেক উপত্যকা

বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি জেলার একেবারে উত্তরে বাঘাইছড়ি উপজেলায় সাজেক উপত্যকা (ভ্যালী) অবস্থিত। উপত্যকাটি সাজেক ইউনিয়নের তথা বাংলাদেশের একটি বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র।

রাঙামাটির বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র সাজেক উপত্যকায় চান্দের গাড়ি বা বডি লক্করঝক্কর গাড়ি দিয়ে ঘুরাঘরি

দুটি পাড়া- রুইলুই এবং কংলাক এই সাজেক ভ্যালিতে আবস্থিত। ১,৭২০ ফুট উচ্চতায় ১৮৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় রুইলুই পাড়া। আর ১,৮০০ ফুট উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত হয় কংলাক পাড়া ।

রাঙ্গামাটির বিখ্যাত "রাঙামাটির ছাদ" এই সাজেক ভ্যালিকেই আভিহিত করা হয়। সাজেক ভ্যালী মূলত রুইলুই পাড়া, হামারিপাড়া এবং কংলাক পাড়া , এই তিনটি পাড়ার সমন্বয়ে গঠিত।

সাজেক ভ্যালির উৎপত্তি মূলত কর্ণফুলী নদী থেকে উৎপন্ন সাজেক নদী থেকে। সাজেক ভ্যালী দিয়ে কল কল শব্দে বয়ে যাওয়া সাজেক নদীটি ভ্যালিটিকে আরও আকর্ষ মণ্ডিত করেছে। যা সাজেক ভ্যালীর রূপ গুণকে প্রস্ফুটিত করে।

সাজেক ভ্যালীর ভৌগলিক পরিচিতিঃ

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য সাজেকের উত্তরে, রাঙামাটির লংগদু সাজেকের দক্ষিণে, ভারতের মিজোরাম সাজেকের পূর্বে, এবং পশ্চিমে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা অবস্থিত। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন সাজেক ইউনিয়ন। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন সাজেকের আয়তন ৭০২ বর্গমাইল। সাজেক বিজিবি ক্যাম্প এখানেই রয়েছে।

রাঙামাটির বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র সাজেক উপত্যকায় চান্দের গাড়ি বা বডি লক্করঝক্কর গাড়ি দিয়ে ঘুরাঘরি

পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটির এই সাজেকে মূলত লুসাই, পাংখোয়া এবং ত্রিপুরা উপজাতি বসবাস করে।সাজেক ভ্যালি থেকে রাঙামাটির অনেকটা অংশই দেখে যায় ।আর এই জন্যই “রাঙামাটির ছাদ” বলা হয় এই সাজেক ভ্যালিকে।

সাজেক ভ্যালী বেশিরভাগ সময়ই মেঘে ডাকা থাকে ।মেঘে ডাকা সাজেকের প্রকৃতি দেখতে হাজার হাজার পর্যটক এখানে ভিড় জমান। বিশেষ করে ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে এই জায়গাটি ভ্রমণের জন্য আদর্শ একটি জায়গা।

ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য সাজেক ভ্যালীতে সুবিধাজনক যাতায়াত ব্যবস্থাঃ

রাঙামাটি জেলার সবচেয়ে উত্তরে ভারতের মিজোরাম সীমান্তে সাজেক ভ্যালী অবস্থিত। খাগড়াছড়ি জেলা সদর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার গেলেই পৌছে যাওয়া যায় সাজেক ভ্যালীতে।খাগড়াছড়ির দিঘিনালা থেকে প্রায় ৫০ কিমি দূরে সাজেক ভ্যালী অবস্থিত। যদিও সাজেক ভ্যালী রাঙামাটি জেলায় অবস্থিত কিন্তু তারপরেও খাগড়াছড়ি থেকে এখানে যাতায়াত বেশি সুবিধাজনক।

চান্দের গাড়ি বা বডি লক্করঝক্কর গাড়ির যাতায়াত ভাড়াঃ

বিখ্যাত সেই চান্দের গাড়ি সাজেক ভ্যালীতে যাতায়াতের জন্যই ব্যবহার করা হয়। চান্দের গাড়ি বলতে সাধারণত খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক ভ্যালীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া এক ধরনের বিশেষ জীপ গাড়ি। অনেকে শখ করে এটাকে চান্দের গাড়ি বা বডি লক্করঝক্কর গাড়িও বলে থাকেন।

রাঙামাটির বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র সাজেক উপত্যকায় চান্দের গাড়ি বা বডি লক্করঝক্কর গাড়ি দিয়ে ঘুরাঘরি

ভ্রমণের জন্য ভ্রমণ পিপাসুরা এই বডি লক্করঝক্কর গাড়িটি ফিরতি ভাড়াসহ ২ (দুই ) রাত্রি যাপন সহ ৮০০০ টাকা থেকে ১০০০০ টাকা । চান্দের গাড়ি করে ১২ থেকে ১৫ জন যাওয়া যায়। তবে খরচ বাচাতে আপনি একটি গ্রুপ করে যেতে পারেন।

সাজেক ভ্যালীর মনোরম প্রাকৃতিক রূপ

মনের প্রশান্তি ও সজীবতার জন্য ভ্রমণের বিকল্প নেই। সাজেক ভ্যালীতে যাওয়ার সময় চারদিকে আপনার চোখে ভাসবে মেঘে ঘেরা আকাশ ও সবুজের চাদর বিছানো মাঠ। পাহাড়ের পাশ ঘেঁষে বয়ে চলে শো শো বাতাস। যাতায়াতের রাস্তাগুলো কোথাও উচু আবার কোথাও নিচু। দেখতে সাপেরমত আঁকাবাঁকা আর ভয়ংকর ।

চারদিক শুধু উচু নিচু পাহাড় সবুজে সমারোহে মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশ। চলারপথে রাস্তায় সেখানকার স্থানীয় উপজাতির বসবাস। কমলা, আখ, পেঁপে,আর বাদাম সেখানকার মাঠের বিশেষ আকর্ষণ ।সাজেকের রিসোর্ট গুলো ভিন্ন ভিন্ন রঙয়ে সাজানো।

তবে বেশিরভাগ রিসোর্টগুলো বাশ,কাঠ, খড় ও ছন দিয়ে তৈরি ।প্রকৃতপক্ষে সাজেক ভ্যালীর প্রায় সব হোটেল মোটেল তৈরিতে বাঁশ ব্যবহার করে যা দেখে মনে হয় বাঁশ তাদের সংস্কৃতের একটা অংশ। সাজেক ভ্যালী থেকে মন ভরে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত দেখা যায়। তাছাড়া এখানকার উপজাতিদের নিজস্ব উৎসব চোখে পরার মত।

সাজেক ভ্রমণের উপযুক্ত সময় কোনটি?

প্রায় সারা বছরই সাজেক বিভিন্ন বর্ণে নিজের চেহেরায় মাধুর্য্যতা বয়ে আনে ।তবে বৃষ্টি, শরৎ এবং শেষ শরতে আপনি সাদা মেঘ খুব কাছ থেকে অনুভব করতে পারবেন। আপনি বছরের যে কোন সময় সাজেক ভ্রমণ করতে পারেন।

তবে ইংরেজি জুলাই থেকে নভেম্বর মাসে সাজেক ভ্যালীর চারপাশে মেঘের খেলা দেখা যায় বেশি। তাই জুলাই থেকে নভেম্বর এই সময়টাই সাজেক ভ্রমণের জন্যে সবচেয়ে ভালো।

Post a Comment

0 Comments