Recents in Beach

header ads

দর্শনীয় স্থান সেন্ট মার্টিন দ্বীপ তথা নারিকেল জিঞ্জিরা ভ্রমণের গোপন কথা 2022

সেন্ট মার্টিন দ্বীপের অজানা ইতিহাস

বাংলাদেশ একটি ছোট আয়তনের দেশ হলেও এখানে রয়েছে জানা অজানা অসংখ্য দর্শনীয় স্থান ।বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে রয়েছে বঙ্গোপসাগর। আর বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বাংশে রয়েছে ছোট আয়তনের একটি প্রবাল দ্বীপ নাম তার সেন্ট মার্টিন।

সেন্ট মার্টিন দ্বীপের অজানা ইতিহাস

কবে কখন এই দ্বীপ আবিষ্কৃত হয়েছিল তার হদিস এখনও পাওয়া যায়নি তবে ধারনা করা হয় সর্বপ্রথম কিছু আরব বণিক চট্টগ্রামে তাদের ব্যবসার প্রয়োজনে আসা যাওয়া করতেন। আর সেখান থেকেই তারা এই দীপটি বিশ্রামের জন্য ব্যবহার করতেন।পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজনেরা এটি আবিস্কার করে।

সেন্ট মার্টিন দ্বীপের প্রথম আদিবাসী হচ্ছে রাখাইন সম্প্রদায়ের ১৩ টি পরিবার এবং এদের বেশিরভাগই ছিল মস্যজীবী।এই দ্বীপের উত্তরাংশে এরা বসতি স্থাপন করেছিল। পরবর্তীতে এই দ্বীপে বাঙালির বসতি গড়ে ওঠে।

ছোট্ট এই প্রবাল দ্বীপটির আয়তন মাত্র ৯ কিলোমিটার। মূলত দ্বীপটি বাংলাদেশ ও মায়ানমারকে বিভক্তকারী নদী নাফ নদীর মোহনায় অবস্থিত।যে নদী পার হয়ে হাজারো মুসলমান তথা যাদেরকে আমরা রোহিঙ্গা শরণার্থী বলি তারা মায়ানমার থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে ২০১৭ সালে।

মানুষের বাস উপযোগী সমতল ভুমির সেন্ট মার্টিন দ্বীপটি মূলত বালু, স্বাদুপানি আর চুনাপাথর দিয়ে গঠিত।এখানে কৃষিজ পন্য উৎপাদন প্রয়োজনের তুলনায় অতি নগণ্য। তবে এই দ্বীপে বিভিন্ন প্রজাতির প্রবাল, শামুক-ঝিনুক, সামুদ্রিক শৈবাল, গুপ্তজীবী উদ্ভিদ, সামুদ্রিক মাছ, বিভিন্ন উভচর প্রাণী ও পাখি প্রচুর পরিমানে পাওয়া যায়।

আর তাই স্বভাবতই সেন্ট মার্টিন দ্বীপের মানুষের প্রধান আয়ের উৎস হচ্ছে সামুদ্রিক মাছ ও বিভিন্ন সম্পদ আহরণ।এছাড়াও সেন্ট মার্টিন দ্বীপে প্রচুর পরিমানে ঝোপঝাড়, নারিকেল গাছ ও ম্যানগ্রুপ গাছ জন্মে। এখানকার সমুদ্র থেকে আহরণ করা শৈবাল পর্যটকদের কাছে বেশ ভাল দামে বিক্রি করা হয়।

মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা এই দ্বীপটিতে নারিকেলের গাছ বেশি দেখতে পাওয়া যায় বলে স্থানীয়রা এই দীপটিকে নারিকেল জিঞ্জিরা বলেও আখ্যায়িত করেন।তাছাড়া বাংলাদেশের বিখ্যাত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ দীপটিকে তার সৌন্দর্যে মোহিত হয়ে দারুচিনি দ্বীপ হিসেবেও অভিহিত করেন।

এই দ্বীপ নিয়ে হুমায়ূন আহমেদের বিখ্যাত চলচিত্র দারুচিনি দ্বীপ ২০০৭ সালে মুক্তি পায়। দারুচিনি দ্বীপ সিনেমায় অভিনয় করেন তৎকালীন জনপ্রিয় অভিনেতা তৌকির আহমেদ। বিশেষ করে বাংলাদেশে যেসব সমুদ্র প্রেমি মানুষ রয়েছেন তাদের জন্য এই দীপটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

সেন্ট মার্টিন দ্বীপের অজানা ইতিহাস

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প হিসেবে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের কথোপকথন

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পুরো বিশ্বে সমাদৃত। বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের অন্যতম কাঁচামাল হচ্ছে মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা এই সেন্ট মার্টিন দ্বীপটি। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পর্যটক মুগ্ধ হয়েছেন।

সেন্ট মার্টিন দ্বীপের দর্শনীয় স্থান সমূহ কোনগুলোঃ

সেন্ট মার্টিন দ্বীপে রয়েছে অসম্ভব সন্দর একটি সমুদ্র সৈকত।যেখান থেকে আপনি সমুদ্রে সূর্যাস্তের দৃশ্যরূপ খুব সন্দরভাবে অবলোকন করতে পারবেন। তাছাড়া এখানে রয়েছে ছেঁড়া দ্বীপ, মেরিন পার্ক, পাথরের মানুষ, বঙ্গোপসাগর, নারিকেল বাগান উত্তর বীচে, দারুচিনি দ্বীপ, হুমায়ূন আহমেদের বাড়ি।

সেন্ট মার্টিন দ্বীপে যাতায়াত ব্যবস্থা

বাংলাদেশের যেকোনো জেলা বা স্থান থেকে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে যাওয়া যায়। যদি আপনি ঢাকা থেকে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে থাকেন তাহলে হানিফ এক্সপ্রেস, শ্যামলী পরিবহন, রিলেক্স, বাগদাদ এক্সপ্রেস, গ্রীন লাইন ছাড়াও আরও অনেক এসি নন এসি বাস গাড়ি পেয়ে যাবেন।

যেগুলো ১৫০০টাকা থেকে ২০০০টাকার মধ্যে আপনাকে টেকনাফ পর্যন্ত নিয়ে যাবে।তারপর সেখান থেকে শিপ বা জাহাজ বা ট্রলারে করে আপনাকে সেন্ট মার্টিন যেতে হবে।

ঢাকা বাদে অন্যান্য জেলা ও বিভাগ থেকে ঐ একই নিয়মে বিভিন্ন বাস গাড়ি দিয়ে টেকনাফ এসে তারপর সেখান থেকে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে যেতে পারবেন।

সেন্ট মার্টিন দ্বীপে হোটেল ও রিসোর্ট সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় তথ্যাবলি

সেন্ট মার্টিন দ্বীপে বেশ ভালো মানের অনেকগুলো হোটেল ও কটেজ রয়েছে। যেগুলো আপনাকে আগে থেকেই বুকিং দিয়ে রাখতে হবে। তানাহলে বেশ মুশকিলে পড়তে পারেন। তবে আমি আপনাদের সুবিধার্থে বেশ কয়েকটি হোটেল ও কটেজ এঁর নাম ও যোগাযোগের ঠিকানা দিয়ে রাখতেছি।

দ্বীপান্তর বিচ রিসোর্ট (Dwipantor Beach Resort)

দ্বীপান্তর বিচ রিসোর্ট সেন্টমার্টিন দ্বীপের সবচেয়ে সেরা রিসোর্ট গুলোর মধ্যে একটি। এই রিসোর্টে একটি কাঠের তৈরি দুই তলা রেস্টুরেন্টও রয়েছে যেখানে আপনি আপনার পছন্দের খাবার খুব সহজেই পেয়ে যাবেন।

দ্বীপান্তর বিচ রিসোর্টে রয়েছে চমৎকার স্থাপত্যশৈলীর আলাদা আলাদা কটেজ যেখানে রয়েছে কাঠের ডু-প্লেক্স রুম। দ্বীপান্তর বিচ রিসোর্টে যোগাযোগ করার জন্য নিচের মোবাইল নাম্বারটিতে ফোন করে যেতে পারেন। মোবাইল —-- ০১৮৮৬-৩৬৩২৩২

আটলান্টিক রিসোর্ট (পূর্ব নাম-লাবিবা বিলাস) (Atlantic Resort)

সেন্টমার্টিন দ্বীপের আরেকটি উন্নত মানের রিসোর্টের মধ্যে আটলান্টিক রিসোর্ট অন্যতম। সারি সারি নারিকেল ও সুপারি বাগান বেষ্টিত এই রিসোর্টে বসে দেখতে পাবেন সমুদ্রের পাড়ের অপরুপ সৌন্দর্য যা আপনাকে বিমোহিত করে তুলবে।

এখানে বসে দেখতে পারবেন জীবন্ত শৈবাল,চকচক পানিতে দুল খাচ্ছে।এছাড়াও উড়ে বেড়ানাে পাখি, জলের মাতােয়ারা ঢেউ, রূপালী মাছের ঝিলিক আপনার নজর কেড়ে নেবে।

আটলান্টিক রিসোর্ট যোগাযোগঃ
Dhaka Office : +880 1318 31 42 31 +880 1318 31 42 32 Cox's Bazar Office : +880 1318 31 42 35 +880 1318 31 42 36 Teknaf Office : +880 1318 31 42 39 +880 1318 31 42 40 Saint Martin Office : +880 1318 31 42 43 +880 1318 31 42 4
জ্যোৎস্নালয় বিচ রিসোর্ট (Josnaloy Beach Resort) যোগাযোগঃ

সেন্টমার্টিন দ্বীপের পশ্চিম বিচে অবস্থিত চারিদিক নারিকেল গাছ ঘেরা জ্যোৎস্নালয় রিসোর্ট। রিসোর্ট থেকে সমুদ্র সৈকত দেখা যায়। জ্যোৎস্নালয় রিসোর্ট বুকিং এঁর জন্য তাদের ফেসবুক পেইজে যোগাযোগ করতে পারেন।

ফোন করুন 01755238181 নাম্বারে

এছাড়াও আরও অনেক রিসোর্ট ও হোটেল রয়েছে যেমন- ব্লু মেরিন রিসোর্ট (Blue Marine Resort), ফ্যান্টাসি হোটেল এন্ড রিসোর্ট (Fantasy Hotel and Resort,কিংশুক ইকো রিসোর্ট (Kingshuk Resort , মিউজিক ইকো রিসোর্ট (Music Eco Resort), নীল দিগন্ত রিসোর্ট (Nil Digante Resort), দ্যা বিচ ক্যাম্প রিসোর্ট (The Beach Camp Resort)

ব্লু মেরিন রিসোর্ট (Blue Marine Resort) যোগাযোগঃ
Address: টেকনাফ উপজেলা Saint Martin Island, 4762 Phone: 01713-399001
কিংশুক ইকো রিসোর্ট (Kingshuk Resort যোগাযোগঃ
Address: west beach, saitn martin island, 4762 Hours: Open 24 hours Phone: 01883-685637
মিউজিক ইকো রিসোর্ট (Music Eco Resort)যোগাযোগঃ
Address: Dokkhin Diyar Matha, Saint Martin's Island, কক্সবাজার 4762 Hours: Open 24 hours Phone: 01304-122788
নীল দিগন্ত রিসোর্ট (Nil Digante Resort) যোগাযোগঃ
Address: 113, Kona Para, St. Martin Island,Teknaf Upazila, Cox's Bazar 4761 Phone: 01730-051005

সেন্ট মার্টিন দ্বীপে যাতায়াত খরচ

সেন্ট মার্টিন দ্বীপে যাতায়াত খরচ বিভিন্ন জায়গা থেকে বিভিন্ন রকম। তবে ঢাকা থেকে এসি ও নন এসি বাসে গেলে ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা । এছাড়াও এখানে ট্রলার ভাড়া আসা যাওয়া বাবদ ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

Post a Comment

0 Comments